
নিজস্ব প্রতিবেদক,
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান ও ডিআইজি (অর্গানাইজড ক্রাইম) আলী আকবর খান পদোন্নতি না পাওয়ার প্রেক্ষাপটে স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেছেন। সোমবার তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে আবেদনপত্র জমা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আবেদনপত্রে দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন সময়ে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন আলী আকবর খান। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হলেও সেখানে তার নাম না থাকায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
সরকারি সূত্র বলছে, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে দুজন ১৫তম এবং তিনজন ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা রয়েছেন। আলী আকবর খান ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা হলেও পদোন্নতির তালিকায় নাম না থাকাকে তিনি পুনরায় বঞ্চনার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আবেদনে আলী আকবর খান বলেন, ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ পুলিশে যোগদানের পর থেকে তিনি সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশাসনিক বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর তাকে ওএসডি করা হয়। পরে ২০২২ সালের এপ্রিলে চাকরিচ্যুত হলেও দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন।
আবেদনপত্রে তিনি জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে তিনি আবারও দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে নিজের নাম না থাকায় তিনি মানসিকভাবে হতাশ হয়েছেন বলেও জানান।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী আগামী ২ জুলাই ২০২৬ থেকে স্বেচ্ছায় অবসর কার্যকরের আবেদন জানিয়েছেন আলী আকবর খান। একই সঙ্গে ওই তারিখ থেকে এক বছরের অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) মঞ্জুরের অনুরোধও করা হয়েছে।
সিআইডি সদর দপ্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এ.এম. হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত একটি পত্রে আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আলী আকবর খান মন্তব্য করতে রাজি হননি।
Leave a Reply