
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর হাজারীবাগে একটি বেসরকারি ছাত্রী হোস্টেল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী জান্নাতারা রুমীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে জিগাতলা পুরাতন কাঁচাবাজার রোড এলাকার ওই হোস্টেল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত জান্নাতারা রুমী এনসিপির ধানমণ্ডি থানা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে দলের যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত গণমাধ্যমকে জানান, তিনি দলটির একজন সক্রিয় ও সাহসী সংগঠক ছিলেন।
এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, জান্নাতারা রুমী দীর্ঘদিন ধরে সাইবার বুলিং, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের শিকার ছিলেন। এসব ঘটনার কারণে তিনি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হন বলে দাবি করা হচ্ছে।
তার মৃত্যুর ঘটনায় এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একাধিক পোস্ট ও স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। একটি স্ক্রিনশটে সহযোদ্ধার সঙ্গে মেসেঞ্জার কথোপকথনে জান্নাতারা রুমী লিখেছিলেন, “আমার জন্য অপেক্ষা করছে মৃত্যু”—এমন হৃদয়বিদারক বার্তা।
ফেসবুক পোস্টে তারেক রেজা আবেগঘন ভাষায় লেখেন, “কিভাবে লিখব বুঝছি না, আমার হাত কাঁপছে।” তিনি দাবি করেন, গত এক মাস ধরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অব্যাহত সাইবার বুলিং, হত্যা ও ধর্ষণের হুমকিতে তিনি অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। এমনকি দিনভর হুমকি পাওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সহায়তা মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তারেক রেজা আরও বলেন, “আমরা এটাকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখতে রাজি নই। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। যারা আমার বোনের জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে, তাদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা শান্তিতে বসে থাকব না।”
এ ঘটনায় পুলিশ জানায়, মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষ।
জান্নাতারা রুমীর মৃত্যুর ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে সাইবার বুলিং ও রাজনৈতিক হুমকির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
Leave a Reply