
মোহাম্মদ মোবারক, রামু (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
মায়ের লাশের সামনে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদছেন দুই ভাই। দুজনেই রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দি। শেষবারের মতো মাকে দেখতে জেলা কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরলেও তাঁদের হাত থেকে খোলা হয়নি হাতকড়া। এই হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী হলেন কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া এলাকার মানুষ।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বাদ জোহর পানেরছড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় দুই সহোদর আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদুল আলম ও মো. ইসমাঈলের মা মোস্তফা বেগমের (৮০) জানাজা সম্পন্ন হয়।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের পানেরছড়া গ্রামের বাসিন্দা ফরিদুল আলম ও মো. ইসমাঈল দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক মামলায় কক্সবাজার কারাগারে বন্দি রয়েছেন। বার্ধক্যজনিত কারণে শুক্রবার তাঁদের মা মোস্তফা বেগম মৃত্যুবরণ করলে দুই ভাই প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে শনিবার সকালে তাঁদের সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়।
জানাজায় অংশ নিতে এসে মায়ের মরদেহের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন দুই ভাই। হাতকড়া পরা অবস্থায় তাঁরা উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা ষড়যন্ত্রের শিকার। আমরা কখনো কারও ক্ষতি বা কোনো অন্যায় করিনি।” এসময় তাঁরা তাঁদের অসুস্থ বাবা নুর আহমদের জন্য এবং মরহুমা মায়ের রুহের মাগফেরাত কামনায় সকলের দোয়া চান।
স্বজন ও স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, দুই ভাইয়ের কারাবাস দীর্ঘ আড়াই মাসের। প্রথমে খুঁনিয়াপালং ইউনিয়নের একটি মামলায় তাঁদের আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই মামলায় জামিন পাওয়ার পর দক্ষিণ মিঠাছড়ির অন্য একটি মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেখানেও জামিন হলে সবশেষে রামুর মাহিন চৌধুরীর মামলায় তাঁদের পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
কারাগারে থাকার কারণে জীবিত অবস্থায় মা মোস্তফা বেগমকে শেষবারের মতো দেখতে পাননি তাঁরা। বর্তমানে তাঁদের বৃদ্ধ বাবা নুর আহমদও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী।
জানাজা শেষে কঠোর পুলিশি পাহারায় দুই ভাইকে পুনরায় কক্সবাজার জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
Leave a Reply