
নিজস্ব প্রতিবেদক
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফের ইট পোড়ানোর প্রস্তুতি ও কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২০২৪ সালের ফেব্রæয়ারিতে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ সারাদেশে সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধে কঠোর নির্দেশনা জারি করে। সেই ধারাবাহিকতায় বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি এলাকার সব ইটভাটায় আগুন না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
কিন্তু নির্দেশনা বহাল থাকা সত্ত্বেও, গত ১২ নভেম্বর বদলগাছী উপজেলা পরিষদ চত্বরে শতাধিক শ্রমিককে সঙ্গে নিয়ে ইটভাটা মালিকেরা ভাটা বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে তারা ইউএনওর কাছে স্মারকলিপিও জমা দেন।

এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি তো দূরে থাক, বরং আরও উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া যায়। গত ২৩ নভেম্বর উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় সব ভাটাতেই ইট পোড়ানোর পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন। এমনকি এনামুল হকের মালিকানাধীন একটি ভাটায় গত ২১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে আগুন জ্বালানোর ঘটনাও নিশ্চিত হয়েছে। যা সরাসরি হাইকোর্টের আদেশ লঙ্ঘনের শামিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, “কোন শক্তির বলেই বা আদালতের রায় ও প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছেন ভাটা মালিকেরা?” কারণ কোনো ভাটা মালিক এখনো ইট পোড়ানোর অনুমতির লিখিত আদেশ দেখাতে পারেননি।
বদলগাছী ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি এনামুল কবির বলেন, ফায়ার সার্ভিস, শ্রম অধিদপ্তর, বিএসটিআই সব লাইলেন্সই আছে। শুধু ডিসি অফিসের ছাড়পত্র সব ভাটা পায় নাই। “প্রতিবছর প্রতিটি ভাটা ভ্যাট-ট্যাক্স, নবায়ন ফি ও অন্যান্য খরচ বাবদ আমরা সরকারকে ৮/৯ লাখ টাকা জমা দিই। সরকার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কিন্তু সরকার ভ্যাট-ট্যাক্স, লাইসেন্সের নবায়ন ফি নিচ্ছে অথচ ছাড়পত্র দিচ্ছে না। একটি ভাটা হঠাৎ করে বন্ধ করতে চাইলেই তো বন্ধ করা যায় না। এই খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ রয়েছে। ভাটার সঙ্গে বহু মানুষের কর্মসংস্থান ও রুজি-রিযিক জড়িত। এতে মালিক পক্ষের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

তিনি আরও বলেন, গাজীপুর জেলা ছাড়া দেশের সব জায়গাতেই ভাটা চলছে এবং ইট বের হয়েছে। এজন্যই আমরা মানববন্ধন করলাম যাতে আমাদেরকে সুযোগ দেওয়া হয়। তা না হলে আমরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ভা “বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। গত ১২ নভেম্বর ভাটা মালিকরা মানববন্ধন করেছিল এবং একটি স্মারকলিপি দিয়েছিল। তার প্রেক্ষিতেই ইট পোড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্মারকলিপি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে আর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নাই, এবিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ভালো বলতে পারবে। একটি ভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে এবং অন্যগুলোতে ইট পোড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে তাদের বিষয়ে আপনার পদক্ষেপ কি হবে জানতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানান তিনি।”
নওগাঁ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমুল হোসাইনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
Leave a Reply