
নিজস্ব প্রতিবেদক,
নওগাঁর বদলগাছীতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নিয়োগকৃত ডিলারশীপ বাতিল করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারসহ উপজেলার সর্বস্তরের ব্যানারে প্রায় শতাধিক ব্যক্তি উপজেলা পরিষদের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন।
১৯ নভেম্বর (মঙ্গলবার) উপজেলা পরিষদের সামনে সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন শেষে তারা ইউএনও মাহবুব হাসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাঁর কার্যালয় ঘেরাও করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপে তা আর সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, কতিপয় ব্যক্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৭ নভেম্বর উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটি ৮ টি ইউনিয়নের পূর্বের ১৬টি ডিলারকে বাতিল করে নতুন করে খাদ্যবান্ধব কর্মসুচির ডিলার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এরপর ৬৬ জন ব্যক্তি আবেদন করেন। এর মধ্যে কাগজপত্র ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় ২৭টি আবেদন বাতিল হয়। পরে ৩৯ টি আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ১৫ জন ডিলারকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ১২ নভেম্বর উপজেলায় নোটিশ বোর্ডে নতুন ডিলারদের তালিকা টানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে উপজেলার সর্বস্তরে আলোচনা-সমালোচনার পারদ তুঙ্গে উঠে।
এরপর হঠাৎ গতকাল সোমবার (১৮ নভেম্বর) খাদ্যবান্ধব কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোছা. সাবরিন মোস্তারীর স্বাক্ষরিত নোটিশে উক্ত নিয়োগকৃত ডিলারদের বাতিলের বিষয়টি জানতে পারেন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলাররা। এরপর তাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে তারা খাদ্যবান্ধব কমিটির সভাপতি মাহবুব হাসান ও সদস্য সচিব মোছা. সাবরিন মোস্তারীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ও বাতিলকৃত ডিলার তরিকুল ইসলাম, আজাদুল ইসলাম, ইমাম হোসেন, ওবাইদুল ইসলাম ও সাজ্জাদসহ অন্যান্য ডিলাররা বলেন, গতকাল খাদ্যবান্ধব কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোছা. সাবরিন মোস্তারীর স্বাক্ষরিত নোটিশে নিয়োগ বাতিলের বিষয়টি জানতে পারি যে আমাদের ডিলারশীপ বাতিল করা হয়েছে। যেখানে শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে আমাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হলো সেখানে এমন কি ঘটলো যে আমাদের ডিলারশীপ বাতিল করা হলো। তাহলে কেন নিয়োগ দেওয়া হলো আবার কেন বাতিল করা হলো। বিষয়টি আমরা বুঝতে পারলাম না, এটা নিয়ে আমরা খুবই হতাশ হয়েছি।
তারা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা খাদ্য বান্ধব কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহাবুব হাসানের যোগসাজসে ও অবহেলার কারণে আমাদের এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তাই আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে যদি এই সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।
জানতে চাইলে উপজেলা খাদ্য বান্ধব কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোছা. সাবরিন মোস্তারী বলেন, যারা নিয়োগ পায়নি তাদের মধ্যে ২জন ব্যক্তি ও ৫ জন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচয়ের ব্যক্তির আবেদন ও অভিযোগ জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। উনারা আরও স্বচ্ছভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য পূর্বের নিয়োগ বাতিল করেছেন এবং আমাদেরকে লটারির মাধ্যমে নিয়োগ দিতে বলেছেন। তাহলে আপনারা যাচাই-বাছাই করে যে ১৫ জনকে নিয়োগ দিয়েছিলেন তাতে কি অস্বচ্ছতা ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না আমরা উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটি সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ঐ ১৫ জনকে নিয়োগ দিয়েছিলাম। এখানে কোনও অস্বচ্ছতা হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য বান্ধব কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসান বলেন, জেলায় অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়োগটি স্থগিত করা হয়েছে। তারা পুন:তদন্ত করে ডিলার নিয়োগ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাই ত্রুটি বা কাদের অভিযোগে নিয়োগ বাতিল হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা এবং জেলায় অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়োগ স্থগিত করা হয়েছে।
Leave a Reply