
সবুজ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নে ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের অর্থায়নে নির্মিত হওয়া সিমেন্ট কংক্রিট (সিসি) রাস্তাগুলোর কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, নামমাত্র কাজ করিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ফলে জনগণের জন্য তৈরি হওয়া হওয়া বলে দাবী করা ওই সড়কগুলো কয়েক মাসের মধ্যেই নষ্ট হওয়ার আশংকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার নামফলকে লেখা আছে “ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের অর্থায়নে” এবং “৪নং মিঠাপুর ইউনিয়ন পরিষদের বাস্তবায়নে” অথচ বাস্তব কাজ ও গুণগত মান রক্ষা করে কাজ করা হয়নি। স্থানীয়রা এবং মাঠ পর্যবেক্ষণে পাওয়া তথ্যমতে অধিকাংশ স্থানে ৫ ইঞ্চির পরিকল্পিত সিসি ঢালাইয়ের বদলে মাত্র ১-৩ ইঞ্চি পর্যন্ত ঢালাই করা হয়েছে। উপকরণ অনুপাতে নয় এবং নিম্নমানের ইট ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে এবং অধিকাংশ ঢালাই অসমান। তাছাড়া প্রকল্পের নামফলকে সভাপতির নাম ও ব্যয়ের বিস্তারিত উল্লেখ না থাকায় সরকারি নির্দেশিকা লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ উঠা প্রকল্পসমূহ
মোট বরাদ্দের পরিমাণ ২০ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা হলেও মাঠ পর্যায়ে দেখা যায় কাজের মান ও পরিমাণ পরিকল্পনার তুলনায় অসমান। স্থানীয়রা বলছেন, ৫ ইঞ্চি সিসি ঢালাই হওয়ার কথা থাকলেও অনেক স্থানে ১-৩ ইঞ্চি ঢালাই করা হয়েছে, ফলে সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সড়ক তৈরি হয়নি।
খাদাইল গ্রামের বাসিন্দা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “রাস্তা ঢালাইয়ের নামে পুরাতন ইট ভেঙে ভেঙে ঢালাই দেওয়া হয়েছে। যেখানে ৫ ইঞ্চি হওয়ার কথা সেখানে ২ ইঞ্চি দিয়েছে, কয়েক মাসের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাবে।”
স্থানীয় এক নারী আরও বলেন, “সরকারি টাকা জনগণের কল্যাণে খরচ হওয়ার কথা। এখানে দেখছি শুধু বিল তোলা হয়েছে, টেকসই ও গুণগতমানের কাজ হয়নি।”
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন যে, অনেক ক্ষেত্রে প্রকৌশলী বা মান পর্যবেক্ষক উপস্থিত ছিলেন না; উপকরণ সঠিক অনুপাতে ব্যবহার করা হয়নি এবং ঢালাই অসমানভাবে করা হয়েছে, সব মিলিয়ে কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বদলগাছী উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাহিনুল ইসলাম বলেন, “ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় ইউনিয়ন পরিষদ নিজেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে, আমাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ কম। আমি মাত্র চার মাস হলো কর্মস্থলে যোগদান করেছি, আগের যে কোনো রেজুলেশনে আমার স্বাক্ষর নেই; প্রকল্প মনিটরিং-এর দায়িত্ব সম্পর্কে আমি বিস্তারিত জানি না।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, “সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পেলে আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখি। যদি সিসি ঢালাই সংক্রান্ত কাজের বিষয়ে অনিয়ম বা দুর্নীতি পরিলক্ষিত হয়, অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত করে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাসহ প্রকল্পগুলো পুনরায় মানসম্মতভাবে বাস্তবায়নের দাবি করেছেন।
Leave a Reply